১১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যার আগে-পরে ৮০ বার ফোনে কথা, পরিকল্পনার সন্দেহ পুলিশের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ Time View

হত্যার আগে-পরে ৮০ বার ফোনে কথা, পরিকল্পনার সন্দেহ পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুরঃ
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মামলার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ঘটনার আগে ও পরে ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার মুঠোফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই যোগাযোগকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে ঘটনার আগে ও পরে অনেকবার কথা হয়েছে। ৮০ ঘণ্টায় তাঁরা ৮০ বার কথা বলেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একবার করে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। বিষয়টি অস্বাভাবিক হওয়ায় হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, মুগ্ধ দাসের বাবা কানু দাস এবং সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস পরস্পরের ফুফাতো ভাই। সেই সূত্রে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে চাচাতো ভাইয়ের সম্পর্ক।

এদিকে মামলার দুই আসামির ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রোববার আদালতের নির্দেশে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাঁদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

তবে এই প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাঁরা নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশ জানিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোপ টেস্টে সরাসরি ‘ইয়াবা’ শনাক্ত করা হয় না। ইয়াবায় থাকা অ্যামফিটামিন বা মেথামফেটামিনজাতীয় উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। তবে শরীরে এসব উপাদান নির্দিষ্ট সময়ের পর আর শনাক্ত নাও হতে পারে।

এদিকে চার খুনের মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। তবে আদালতে তাঁদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী মামলাটির তদন্ত করছেন।

Tag :
About Author Information

হত্যার আগে-পরে ৮০ বার ফোনে কথা, পরিকল্পনার সন্দেহ পুলিশের

Update Time : ০২:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হত্যার আগে-পরে ৮০ বার ফোনে কথা, পরিকল্পনার সন্দেহ পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুরঃ
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মামলার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ঘটনার আগে ও পরে ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার মুঠোফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই যোগাযোগকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে ঘটনার আগে ও পরে অনেকবার কথা হয়েছে। ৮০ ঘণ্টায় তাঁরা ৮০ বার কথা বলেছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একবার করে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। বিষয়টি অস্বাভাবিক হওয়ায় হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, মুগ্ধ দাসের বাবা কানু দাস এবং সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস পরস্পরের ফুফাতো ভাই। সেই সূত্রে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে চাচাতো ভাইয়ের সম্পর্ক।

এদিকে মামলার দুই আসামির ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। রোববার আদালতের নির্দেশে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাঁদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

তবে এই প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাঁরা নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশ জানিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোপ টেস্টে সরাসরি ‘ইয়াবা’ শনাক্ত করা হয় না। ইয়াবায় থাকা অ্যামফিটামিন বা মেথামফেটামিনজাতীয় উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। তবে শরীরে এসব উপাদান নির্দিষ্ট সময়ের পর আর শনাক্ত নাও হতে পারে।

এদিকে চার খুনের মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। তবে আদালতে তাঁদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে দুই দিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী মামলাটির তদন্ত করছেন।