রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর মহানগরীর হাজীরহাট থানার উত্তম মৌজায় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাজীরহাট থানাধীন উত্তম মৌজায় অবস্থিত ৩৩৬ শতক জমি সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী হোসনা টোব্যাকো প্রাইভেট লিমিটেডের নামে নিবন্ধিত। পরবর্তীতে গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে নিবন্ধিত আম-মোক্তারনামা দলিলের মাধ্যমে আবুল খায়ের গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের লীফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করে দখলে রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. জুয়েল রানা, মো. আজিজুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি জমিটির একটি অংশের মালিকানা দাবি করে সেখানে প্রবেশ করেন। তাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, দখলে বাধা সৃষ্টি এবং মালিকপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে হাজীরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই বিভিন্নভাবে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাই কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে কোম্পানির পক্ষ থেকে কাটাতারের পরিবর্তে টিনের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালায়। এ সময় শ্রমিকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে কয়েকজন আহত হন।
গুরুতর আহত শ্রমিক মো. মাহবুব রহমান (৪৫) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ম তলার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং মো. বেলাল মিয়া (২৩) ৪র্থ তলার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ও কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজীরহাট থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
Reporter Name 









