সবজি ও মাছের দাম বৃদ্ধিতে চাপে রংপুরের সাধারণ মানুষ
মিজানুর রহমান মিজান,রংপুরঃ
রংপুরে টানা বৃষ্টি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা এবং সরবরাহ সংকটের প্রভাবে কাঁচাবাজারে সবজি ও মাছের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
শুক্রবার (০৭,আগষ্ট) নগরীর শাপলা চত্বর, সিটি বাজার, ধাপ বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপে ও পটল ছাড়া অধিকাংশ সবজিই কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেত এমন সবজির দামও এখন অনেক বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
শুধু সবজি নয়, মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রবণতা দেখা গেছে। দেশীয় মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন মাছের দাম বেড়েছে। মাছ বিক্রেতাদের ভাষ্য, প্রতিকূল আবহাওয়া ও বন্যার কারণে মাছ ধরা কমে যাওয়ায় এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
বাজারে আসা ক্রেতারা জানান, প্রতিদিনই নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একজন স্কুলশিক্ষক বলেন, আগে এক হাজার টাকায় সপ্তাহের বাজারের বড় একটি অংশ হয়ে যেত, এখন একই পরিমাণ পণ্য কিনতে অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। সংসারের অন্য খরচ কমিয়ে বাজার করতে হচ্ছে।
আলমনগর কলনির গৃহিণী নিলা বেগম বলেন, পরিবারের পুষ্টির কথা বিবেচনা করে নিয়মিত সবজি ও মাছ কিনতে হলেও বর্তমান বাজারদরে সবকিছু কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় পণ্য বাদ দিতে হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া গেলে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
এদিকে ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজার তদারকি জোরদার এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। বর্তমানে টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাব কাটার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা।
Reporter Name 









