দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে রংপুরের কেডি ক্যানেল
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুরঃ
রংপুর নগরীর পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কেডি ক্যানেল এখন দখল ও দূষণের কবলে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, ক্যানেলের জায়গা ভরাট এবং নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে এর জলপ্রবাহ। এতে বর্ষা মৌসুমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দশক আগেও কেডি ক্যানেলের পানি ছিল তুলনামূলক স্বচ্ছ। বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি ক্যানেলটি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সময়ের সঙ্গে নগরায়ণের বিস্তার ও তদারকির ঘাটতিতে ক্যানেলের বিভিন্ন অংশে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
ক্যানেলের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলার অভিযোগও রয়েছে। এতে পানিদূষণের পাশাপাশি তলদেশে ময়লা জমে ক্যানেলের পানিধারণ ও প্রবাহক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদেরা বলছেন, একটি শহরের খাল বা ক্যানেল শুধু পানি নিষ্কাশনের পথ নয়; এটি নগর পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জলধারা সংকুচিত হলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কেডি ক্যানেলকে নগরীর দীর্ঘমেয়াদি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য প্রথমে ক্যানেলের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত খনন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্যানেলের বিভিন্ন অংশে ময়লা জমে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়েছে। এতে আশপাশের মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। তাঁদের দাবি, ক্যানেলটি রক্ষায় শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সচেতন নাগরিকেরা বলছেন, প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি ক্যানেলে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। দখল ও দূষণ বন্ধ করে দ্রুত ক্যানেলটি পুনরুদ্ধার করা না গেলে ভবিষ্যতে রংপুরের জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
রংপুর নগরীর টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় কেডি ক্যানেলকে বাঁচাতে এখনই সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Reporter Name 









