১০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ হত্যায় ফরেনসিকের নতুন তথ্য

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ Time View

রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ হত্যায় ফরেনসিকের নতুন তথ্য

রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুর নগরীর কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফরেনসিক বিভাগ। ময়নাতদন্তে নিহতদের মুখমণ্ডলে কোনো অ্যাসিড বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের আলামত পাওয়া যায়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চারটি মরদেহেরই ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।

নিহতদের মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার বিষয়ে চিকিৎসক বলেন, পচন ধরার কারণে মুখ এমন দেখাচ্ছে। সেখানে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙারও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, বাড়ির পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রবেশ করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলেন এবং বকাঝকা করেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

পুলিশের দাবি, প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র তল্লাশি করে। পুলিশ বলছে, হত্যার পর তারা বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে এবং পুনরায় ইয়াবা সেবন করে। পরে আশপাশের লোকজন মসজিদে গেলে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে পালিয়ে যায় বলে পুলিশের দাবি।

ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

Tag :
About Author Information

রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ হত্যায় ফরেনসিকের নতুন তথ্য

Update Time : ০৫:৫৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ হত্যায় ফরেনসিকের নতুন তথ্য

রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুর নগরীর কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফরেনসিক বিভাগ। ময়নাতদন্তে নিহতদের মুখমণ্ডলে কোনো অ্যাসিড বা রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের আলামত পাওয়া যায়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চারটি মরদেহেরই ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।

নিহতদের মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়ার বিষয়ে চিকিৎসক বলেন, পচন ধরার কারণে মুখ এমন দেখাচ্ছে। সেখানে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙারও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশের ভাষ্য, বাড়ির পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রবেশ করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলেন এবং বকাঝকা করেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

পুলিশের দাবি, প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র তল্লাশি করে। পুলিশ বলছে, হত্যার পর তারা বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে এবং পুনরায় ইয়াবা সেবন করে। পরে আশপাশের লোকজন মসজিদে গেলে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে পালিয়ে যায় বলে পুলিশের দাবি।

ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।