১১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে চার খুনঃ প্রশ্নগুলোর পেশাদার জবাব খুঁজবে নতুন কমিশনার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ Time View

রংপুরে চার খুনঃ প্রশ্নগুলোর পেশাদার জবাব খুঁজবে নতুন কমিশনার≅

রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের পেশাদারভাবে জবাব খুঁজে বের করার কথা জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) নতুন কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ।

শুক্রবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার আরপিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন মাহবুবুর রশীদ।

নতুন কমিশনার বলেন, তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। তদন্তের ধারাবাহিকতায় নানা প্রশ্ন উঠবে। এসব প্রশ্নের পেশাদারভাবে জবাব খুঁজে বের করাই পুলিশের দায়িত্ব। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মামলাটি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা তাঁর জন্য আগাম হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

মাহবুবুর রশীদ বলেন, ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর। এ নিয়ে সারা দেশে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। আলোচনায় আসা বিভিন্ন বিষয় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে মামলাটিকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া এবং সুবিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

ঘটনাস্থলের ছাদে পানি দিয়ে আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। ঘটনাস্থল ক্রাইম সিন এবং সেটি সংরক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা সূত্র পাওয়া গেলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। নতুন কোনো ক্লু পাওয়া গেলে পুলিশ তা তদন্তের আওতায় নেবে বলেও জানান কমিশনার।

মাদকের বিস্তার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রশীদ বলেন, মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয়, এটি সারা দেশের সামাজিক সমস্যা। দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার সকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রংপুর শহরে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন নতুন কমিশনার।

গত ২০ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১২) হত্যার শিকার হন। ২২ আগস্ট রাতে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে একই এলাকার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) চলছে।

Tag :
About Author Information

রংপুরে চার খুনঃ প্রশ্নগুলোর পেশাদার জবাব খুঁজবে নতুন কমিশনার

Update Time : ১২:২৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে চার খুনঃ প্রশ্নগুলোর পেশাদার জবাব খুঁজবে নতুন কমিশনার≅

রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের পেশাদারভাবে জবাব খুঁজে বের করার কথা জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) নতুন কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ।

শুক্রবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার আরপিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন মাহবুবুর রশীদ।

নতুন কমিশনার বলেন, তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া। তদন্তের ধারাবাহিকতায় নানা প্রশ্ন উঠবে। এসব প্রশ্নের পেশাদারভাবে জবাব খুঁজে বের করাই পুলিশের দায়িত্ব। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মামলাটি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা তাঁর জন্য আগাম হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

মাহবুবুর রশীদ বলেন, ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর। এ নিয়ে সারা দেশে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। আলোচনায় আসা বিভিন্ন বিষয় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে মামলাটিকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া এবং সুবিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

ঘটনাস্থলের ছাদে পানি দিয়ে আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ কমিশনার বলেন, তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। ঘটনাস্থল ক্রাইম সিন এবং সেটি সংরক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা সূত্র পাওয়া গেলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। নতুন কোনো ক্লু পাওয়া গেলে পুলিশ তা তদন্তের আওতায় নেবে বলেও জানান কমিশনার।

মাদকের বিস্তার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রশীদ বলেন, মাদক শুধু রংপুরের সমস্যা নয়, এটি সারা দেশের সামাজিক সমস্যা। দায়িত্ব নেওয়ার পর শুক্রবার সকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রংপুর শহরে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন নতুন কমিশনার।

গত ২০ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১২) হত্যার শিকার হন। ২২ আগস্ট রাতে স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে একই এলাকার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) চলছে।