১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে প্রবাসী নারীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১১ Time View

ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে প্রবাসী নারীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নুজহাত সারওয়াত তমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দায়ের করা একটি মামলাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এ মামলা করেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই ঢাকার সিএমএম আদালতে ১ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৭৬৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সি.আর. মামলা নং-৫৮১/২০২৬ দায়ের করেন সৈয়দা শিনিয়াত নূরী। নুজহাত সারওয়াত তমার দাবি, এর আগে হাতিরঝিল ও রমনা থানায় মামলা করার চেষ্টা হলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে আদালতে মামলা দায়েরের পর তদন্ত ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

নুজহাত সারওয়াত বলেন, তিনি ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বাদীর সঙ্গে তাঁর কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। ফলে মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তাঁর অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই একটি বাংলাদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাঁকে মামলার কপি পাঠিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে বাংলাদেশে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মামলায় জড়ানো এবং তাঁকে হত্যা মামলার আসামি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

নুজহাত সারওয়াতের ভাষ্য, মামলার বাদী ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে দুটি ইমিগ্রেশন কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, মামলায় অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ সাক্ষী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ভিসা কনসালটেন্সি বা দালালির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মামলার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঢাকা সিএমএমের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে মামলার বাদী ও অভিযোগে নাম উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

নুজহাত সারওয়াত তমা তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি খারিজ এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে প্রবাসী নারীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ

Update Time : ০১:১৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে প্রবাসী নারীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নুজহাত সারওয়াত তমার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে দায়ের করা একটি মামলাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এ মামলা করেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই ঢাকার সিএমএম আদালতে ১ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৭৬৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সি.আর. মামলা নং-৫৮১/২০২৬ দায়ের করেন সৈয়দা শিনিয়াত নূরী। নুজহাত সারওয়াত তমার দাবি, এর আগে হাতিরঝিল ও রমনা থানায় মামলা করার চেষ্টা হলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। পরে আদালতে মামলা দায়েরের পর তদন্ত ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

নুজহাত সারওয়াত বলেন, তিনি ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বাদীর সঙ্গে তাঁর কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। ফলে মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তাঁর অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই একটি বাংলাদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাঁকে মামলার কপি পাঠিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে বাংলাদেশে থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মামলায় জড়ানো এবং তাঁকে হত্যা মামলার আসামি করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

নুজহাত সারওয়াতের ভাষ্য, মামলার বাদী ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে দুটি ইমিগ্রেশন কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, মামলায় অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ সাক্ষী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে অনুসন্ধানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ভিসা কনসালটেন্সি বা দালালির সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মামলার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঢাকা সিএমএমের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে মামলার বাদী ও অভিযোগে নাম উল্লেখ থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

নুজহাত সারওয়াত তমা তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি খারিজ এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।