গুণগত ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে চাই
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর।
গুণগত ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি), রংপুর অঞ্চলের নবনিযুক্ত পরিচালক প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদ।
সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতাকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জ্ঞানভিত্তিক মানবসম্পদই টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি।’
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে গোলাম মাজেদ বলেন, ‘একজন দক্ষ শিক্ষকই একজন দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরি করতে পারেন। তাই গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইংরেজি ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা ও অহংকার। তবে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি। এতে দেশের তরুণরা বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবেন।
কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, লেখাপড়ার পাশাপাশি ওয়েল্ডিং, রেফ্রিজারেশন, প্লাম্বিং, মোবাইল সার্ভিসিং ও ইলেকট্রিক্যালসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে।
মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগে এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তা করা সম্ভব।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতায় এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহণকারী প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদ ২০০৩ সালে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন। নীলফামারী সরকারি কলেজে কর্মজীবন শুরু করে তিনি রংপুর সরকারি কলেজ ও নীলফামারী সরকারি কলেজে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের ১৯ মে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক।
Reporter Name 














