১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাবির শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ২২ Time View

সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাবির শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা,
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১,জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অসংখ্য সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছেন। তাঁদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার দায়িত্ব সবার।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী। গণতন্ত্রের বিকাশ এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা কারিকুলাম যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা, গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার এবং উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।

বাণীতে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের শিক্ষা ও গবেষণায় আরও সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সৃজনশীল চর্চা, নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারেন।
বাণীর শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

Tag :
About Author Information

সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাবির শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৭:১৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাবির শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা,
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১,জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অসংখ্য সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছেন। তাঁদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এখন সেই গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার দায়িত্ব সবার।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ সময়োপযোগী। গণতন্ত্রের বিকাশ এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা কারিকুলাম যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা, গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার এবং উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন।

বাণীতে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের শিক্ষা ও গবেষণায় আরও সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, সৃজনশীল চর্চা, নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারেন।
বাণীর শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।