শহীদ জুলাই দিবসে আবু সাঈদকে শ্রদ্ধা, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা
রংপুর প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে দিনব্যাপী শ্রদ্ধা, স্মরণ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা।
শহীদ জুলাই দিবস উপলক্ষে প্রথমে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন পীরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষও তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকেই বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু একটি আন্দোলনের ইতিহাস নয়, এটি বৈষম্যহীন সমাজ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। তাঁরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করে এবং পরবর্তী গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়। সেই স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতি বছর ১৬ জুলাই ‘শহীদ জুলাই দিবস’ পালিত হচ্ছে।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, তাঁর ছেলের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ন্যায়বিচার ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে শহীদ জুলাই দিবস উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আবু সাঈদ নির্যাতন ও প্রাণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই আন্দোলনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়ভিত্তিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে। কোনো প্রহসনের বিচার নয়, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারই সরকারের লক্ষ্য।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত আলোচনা সভায় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী, রংপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটাই—শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায় এবং তাঁর স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হোক।
Reporter Name 















