১১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: অমিত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ Time View

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: অমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ
গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে স্বীকার করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এ পরিস্থিতির জন্য সরকার জনগণের কাছে দুঃখিত। সামিটের এলএনজি টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গ্যাস খালাস করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে এক্সিলারেট টার্মিনালও পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। এ কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

বর্তমান সংকট কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা কঠিন।
তিনি জানান, এক্সিলারেট টার্মিনাল বয়লারজনিত সমস্যার কারণে বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিট টার্মিনালে এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।
গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশটির কাছে চিঠি পাঠানোর পর ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হয়েছে। পরে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সফর করেছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। সরকার অন্তত একটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার আশা করছে।

আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার উদ্যোগকে মধ্যমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় ট্যাংকের প্রাপ্যতা এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। বর্তমান সংকটের পেছনে অতীতের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তেরও প্রভাব রয়েছে। আগের সরকারগুলো মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংকট কত দিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে না পারার ব্যাখ্যায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জানানো হবে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

Tag :
About Author Information

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: অমিত

Update Time : ১২:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে: অমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ
গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে স্বীকার করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এ পরিস্থিতির জন্য সরকার জনগণের কাছে দুঃখিত। সামিটের এলএনজি টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে গ্যাস খালাস করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে এক্সিলারেট টার্মিনালও পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। এ কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।

বর্তমান সংকট কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা কঠিন।
তিনি জানান, এক্সিলারেট টার্মিনাল বয়লারজনিত সমস্যার কারণে বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিট টার্মিনালে এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।
গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশটির কাছে চিঠি পাঠানোর পর ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হয়েছে। পরে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়া সফর করেছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। সরকার অন্তত একটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার আশা করছে।

আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আনার উদ্যোগকে মধ্যমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় ট্যাংকের প্রাপ্যতা এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।

দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। বর্তমান সংকটের পেছনে অতীতের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তেরও প্রভাব রয়েছে। আগের সরকারগুলো মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংকট কত দিন স্থায়ী হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে না পারার ব্যাখ্যায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা জানানো হবে। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।