ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বৈরিতার নেপথ্যে যুদ্ধের ক্ষত, ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা
স্পোর্টস প্রতিবেদক
ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াই কখনোই শুধু একটি ম্যাচ নয়। মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ের বাইরে এই দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুদ্ধ, ইতিহাস, জাতীয় আবেগ ও বহু পুরোনো ক্ষতের স্মৃতি। বিশ্বকাপে আবারও দুই দল মুখোমুখি হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেই পুরোনো বৈরিতাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আর্জেন্টিনার কাছে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সবচেয়ে বড় ভিত্তি ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ, যা দেশটিতে ‘মালভিনাস যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের ওই যুদ্ধে শত শত সেনাসদস্য নিহত হন। যুদ্ধের পরাজয় আর্জেন্টিনার মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে, যার প্রতিফলন পরে ফুটবল মাঠেও দেখা যায়।
যুদ্ধের চার বছর পর ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে একক নৈপুণ্যে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টি আর্জেন্টিনার জন্য এক ধরনের প্রতীকী প্রতিশোধ ছিল।
তবে দুই দেশের ফুটবল বৈরিতার শুরু আরও আগে। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে বিতর্কিত রেফারিং, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাতিনকে লাল কার্ড এবং ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ আলফ রামসের মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তোলে। এরপর থেকে বিশ্বকাপে দুই দলের প্রতিটি সাক্ষাৎই বাড়তি উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার পর আবারও এই ঐতিহাসিক দ্বৈরথের আবহ তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে গান গাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই দলই স্মরণীয় জয় পেয়েছে, তবে ১৯৮৬ সালের ম্যাচটি এখনো এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। আসন্ন লড়াইয়ে তাই শুধু ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নয়, ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায় রচনার অপেক্ষাও থাকবে দুই দলের সামনে।
Reporter Name 















